ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদকে ভূষিত হলেন ফরিদগঞ্জের শামছুন্নাহার এসএসসির প্রশ্ন ফাঁস: মনোহরগঞ্জে ২ শিক্ষক জেলে, প্রধান শিক্ষক পলাতক বদলে গেছে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থানীয় সরকার দিবস উপলক্ষে শ্রীপুরে র‍্যালি ও আলোচনা সভা শাহরাস্তি রেল স্টেশন বাজার কমিটি নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে মো.সাইফুল ইসলাম সকলের দোয়াপ্রার্থী বিডি হিউম্যান অর্গানাইজেশন এর আইসিটি অলিম্পিয়াড বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন  শাহরাস্তিতে পিতা-মাতাকে ঘর থেকে বের করে দেয়ায় গ্রেফতার পুত্র শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের আয়োজনে মহান একুশে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা দিবস পালিত নিজমেহার ভাই বন্ধু একতা ক্লাব উদ্যোগে প্রীতি ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত নিজমেহার ইয়াং স্টার ক্লাবের কমিটি গঠন

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে বাবাকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে ছেলের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

চাঁদপুর প্রতিনিধিঃ

পারিবারিক কলহে বাবা চেরাগ আলী (৭৫) কে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার দায়ে ছেলে ইমরান হোসেন আকবর (৪০) কে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে আদালত।

২ আগষ্ট বুধবার দুপুরে চাঁদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. মহসিনুল হক এই রায় দেন। একই সাথে আপরাধীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনদায়ে আরো ৩ মাসের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়।

কারাদন্ডপ্রাপ্ত ইমরান হোসেন আকবর চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় সেতিনারায়নপুর গ্রামের চেরাগ আলীর ছেলে। হত্যার শিকার চেরাগ আলী ওই বাড়ীর মৃত আবদুর রহমানের ছেলে।

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, কারাদন্ডপ্রাপ্ত আসামী ইমরান উশৃঙ্খল ও বখাটে প্রকৃতির। তিনি নিজ স্ত্রী ও সন্তানকে প্রায়ই মারধর করতেন। যার কারণে ২০১৭ সালে তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে পিত্রালয়ে চলে যায়।

এদিকে ২০২০ সালের ১৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নিজ বাড়ীতে পারিবারিক বিষয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ইমরান ধারালো দা দিয়ে তার বাবার মাথা, চোখ ও কানে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই চেরাগ আলীর মৃত্যু হয়।

ওই সময় তার মা ফুলমতি বেগম স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে, ছেলে ইমরান তাকেও মেরে আহত করে। এরপর পরিবারের লোকজন ফুলমতি বেগম উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। খবর পেয়ে পুলিশ এসে চেরাগ আলীর মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করেন।

ঘটনার পর ইমরান হোসেন বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় ওই দিনই ইমরানকে হত্যা মামলার আসামী করে তার ছোট ভাই সোলায়মান বাদী হয়ে শাহরাস্তি থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর ২১ জানুয়ারি তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহরাস্তি থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আনিছুর রহমান আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেন। এরপর ওই বছর ২ নভেম্বর তদন্ত শেষে তিনি আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।

সরকার পক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটার (পিপি) রনজিত রায় চৌধুরী জানান, মামলাটি ৩ বছরের অধিক সময় চলা অবস্থায় আদালত ১০জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেন। স্বাক্ষ্য ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আসামীর উপস্থিতিতে এই রায় দেন।

মামলায় আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন মো. শফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া।

Facebook Comments Box
Tag :
About Author Information

RAFIU HASAN

Popular Post

রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদকে ভূষিত হলেন ফরিদগঞ্জের শামছুন্নাহার

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে বাবাকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে ছেলের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

Update Time : ০৫:২৬:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৩

চাঁদপুর প্রতিনিধিঃ

পারিবারিক কলহে বাবা চেরাগ আলী (৭৫) কে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার দায়ে ছেলে ইমরান হোসেন আকবর (৪০) কে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে আদালত।

২ আগষ্ট বুধবার দুপুরে চাঁদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. মহসিনুল হক এই রায় দেন। একই সাথে আপরাধীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনদায়ে আরো ৩ মাসের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়।

কারাদন্ডপ্রাপ্ত ইমরান হোসেন আকবর চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় সেতিনারায়নপুর গ্রামের চেরাগ আলীর ছেলে। হত্যার শিকার চেরাগ আলী ওই বাড়ীর মৃত আবদুর রহমানের ছেলে।

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, কারাদন্ডপ্রাপ্ত আসামী ইমরান উশৃঙ্খল ও বখাটে প্রকৃতির। তিনি নিজ স্ত্রী ও সন্তানকে প্রায়ই মারধর করতেন। যার কারণে ২০১৭ সালে তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে পিত্রালয়ে চলে যায়।

এদিকে ২০২০ সালের ১৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নিজ বাড়ীতে পারিবারিক বিষয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ইমরান ধারালো দা দিয়ে তার বাবার মাথা, চোখ ও কানে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই চেরাগ আলীর মৃত্যু হয়।

ওই সময় তার মা ফুলমতি বেগম স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে, ছেলে ইমরান তাকেও মেরে আহত করে। এরপর পরিবারের লোকজন ফুলমতি বেগম উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। খবর পেয়ে পুলিশ এসে চেরাগ আলীর মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করেন।

ঘটনার পর ইমরান হোসেন বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় ওই দিনই ইমরানকে হত্যা মামলার আসামী করে তার ছোট ভাই সোলায়মান বাদী হয়ে শাহরাস্তি থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর ২১ জানুয়ারি তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহরাস্তি থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আনিছুর রহমান আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেন। এরপর ওই বছর ২ নভেম্বর তদন্ত শেষে তিনি আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।

সরকার পক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটার (পিপি) রনজিত রায় চৌধুরী জানান, মামলাটি ৩ বছরের অধিক সময় চলা অবস্থায় আদালত ১০জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেন। স্বাক্ষ্য ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আসামীর উপস্থিতিতে এই রায় দেন।

মামলায় আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন মো. শফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া।

Facebook Comments Box