ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তমের নির্দেশে উয়ারুকে থামবে আইদি পরিবহন আমি ৯৬ সালের রফিকুল ইসলাম নই, আমি ২৪ সালের রফিকুল ইসলাম স্ত্রী নির্যাতনের প্রতিকার চেয়ে প্রবাসী খোরশেদ আলমের সাংবাদিক সম্মেলন শাহরাস্তিতে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে বিএনপির আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত শাহরাস্তি ক্রিকেট একাডেমীর আয়োজনে ট্যালেন্ট হান্টের পর্দা উঠলো আজ সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকবেন মৌসুমি সরকার শাহরাস্তিতে দেবরের কোদালের কোপে ভাবির মৃত্যু প্রিয় নেতাকে বিজয়ী করতে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে শরিফ খান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মৌসুমিকে বিজয়ী করতে চায় জনগণ আবদুল জলিল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হবেন বলে জানালেন সাধারণ জনতা

শাহরাস্তির চিতোষী ডিগ্রী কলেজের সভাপতি ও অধ্যক্ষের দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে শিক্ষক, কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রীদের মানববন্ধন

চাঁদপুর জেলা শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী ডিগ্রী কলেজের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার ও অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন ভূঁঞার নেতৃত্বে বহিরাগত দুষ্কৃতিকারীরা কলেজের চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারি মোঃ নিজাম উদ্দিনের উপরে অতর্কিত হামলা করে।

এর প্রতিবাদে কলেজ শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে কলেজ মাঠে মানববন্ধন করেছে।

হামলার স্বীকার নিজাম উদ্দিন বলেন, গত ৭ জুলাই শুক্রবার কলেজে কাজের কথা বলে আমাকে অধ্যক্ষ ফোন দিলে আমি দায়িত্ব পালন করতে কলেজে চলে আসি। কলেজে এসে আমি কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার, অধ্যক্ষ মোঃ আনোয়ার হোসেন ভূঁঞা, কলেজ পরিচালনা পরিষদের সদস্য আব্দুল আজিজ মানিকসহ স্থানীয় দায়িত্বশীল নেতাদের দেখতে পাই। তারা আমাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করে হেনস্তা করতে থাকলে এমতাবস্থায় কামাল হোসেন, শাহাদাত হোসেন, মনিরুজ্জামান আনসারী, নজরুল ইসলাম স্বপন, বেলায়েত হোসেন মিজান, হাবিব ও মাহবুবসহ আরও অনেকে কোন কারণ ছাড়াই আমার উপর অতর্কিত হামলা করে। আমি আত্ম রক্ষার্থে কলেজ হতে পালিয়ে যাই।

কলেজের একাধিক শিক্ষক ও কর্মচারীরা জানান, উপাধ্যক্ষ মোঃ কামরুল আহসান চৌধুরী অধ্যক্ষ নিয়োগের অভিযোগ এনে সভাপতির বিরুদ্ধে মামলা করেন। যা চলমান। কলেজের বর্তমান সভাপতি ও অধ্যক্ষ তাদের অনুসারী শিক্ষকদের মাধ্যমে দাপ্তরিক সকল কাজ করছেন। শিক্ষার্থীরা পড়াশুনার জন্য ভালো পরিবেশ পাচ্ছে না। পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত নয় তারা। শিক্ষার্থীদের অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বর্তমান সভাপতি ও অধ্যক্ষ। এখানেই ক্ষান্ত নয়, কলেজের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউই মুখ খুলতে চাচ্ছে না। তিনি ২০২০সালের ৭ জুন কলেজটির সভাপতি পদে নির্বাচিত হন। এরপর থেকে সভাপতি কলেজ একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিজের মর্জি মতো শিক্ষক/কর্মচারী নিয়োগ ও ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে কলেজের অর্থ আত্মসাৎ করার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

হামলার বিষয়ে কলেজটির অধ্যক্ষ মোঃ আনোয়ার হোসেন ভূঁঞা বলেন, আমি হামলার বিষয়ে কিছুই জানি না।

চিতোষী ডিগ্রী কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম তালুকদারের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী কলেজের একজন উপাধ্যক্ষ এক বছরের জন্য ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারে। দায়িত্ব হতে উপাধ্যক্ষকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দিয়ে সরকারী নীতিমালা অনুসরণ করে বর্তমান অধ্যক্ষ মোঃ আনোয়ার হোসেন ভূঁঞাকে নিয়োগ প্রদান করা হয়।

কর্মচারী নিজামকে লাঞ্চিত করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কলেজে মারামারির কোনো ঘটনা ঘটে নি। যদি মারামারি হয়েও থাকে, এ বিষয়ে আমার জানা নাই। আমি লোকমুখে শুনেছি, নিজাম ও তার বন্ধুদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির রেষ ধরে মারামারি হয়েছে। ঘটনার সময় জেড এম আনোয়ার ও স্থানীয় আ’লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলো।

মানববন্ধন হওয়া প্রসঙ্গে তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, আমার জানা মতে কলেজে কোন মানববন্ধন হয় নি। উপাধ্যক্ষ মোঃ কামরুল আহসান চৌধুরী অধ্যক্ষ না হওয়ায় আমার বিরুদ্ধে কারসাজি করছে।

Facebook Comments Box
Tag :

মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তমের নির্দেশে উয়ারুকে থামবে আইদি পরিবহন

শাহরাস্তির চিতোষী ডিগ্রী কলেজের সভাপতি ও অধ্যক্ষের দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে শিক্ষক, কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রীদের মানববন্ধন

Update Time : ০২:৪৬:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ জুলাই ২০২৩

চাঁদপুর জেলা শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী ডিগ্রী কলেজের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার ও অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন ভূঁঞার নেতৃত্বে বহিরাগত দুষ্কৃতিকারীরা কলেজের চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারি মোঃ নিজাম উদ্দিনের উপরে অতর্কিত হামলা করে।

এর প্রতিবাদে কলেজ শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে কলেজ মাঠে মানববন্ধন করেছে।

হামলার স্বীকার নিজাম উদ্দিন বলেন, গত ৭ জুলাই শুক্রবার কলেজে কাজের কথা বলে আমাকে অধ্যক্ষ ফোন দিলে আমি দায়িত্ব পালন করতে কলেজে চলে আসি। কলেজে এসে আমি কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার, অধ্যক্ষ মোঃ আনোয়ার হোসেন ভূঁঞা, কলেজ পরিচালনা পরিষদের সদস্য আব্দুল আজিজ মানিকসহ স্থানীয় দায়িত্বশীল নেতাদের দেখতে পাই। তারা আমাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করে হেনস্তা করতে থাকলে এমতাবস্থায় কামাল হোসেন, শাহাদাত হোসেন, মনিরুজ্জামান আনসারী, নজরুল ইসলাম স্বপন, বেলায়েত হোসেন মিজান, হাবিব ও মাহবুবসহ আরও অনেকে কোন কারণ ছাড়াই আমার উপর অতর্কিত হামলা করে। আমি আত্ম রক্ষার্থে কলেজ হতে পালিয়ে যাই।

কলেজের একাধিক শিক্ষক ও কর্মচারীরা জানান, উপাধ্যক্ষ মোঃ কামরুল আহসান চৌধুরী অধ্যক্ষ নিয়োগের অভিযোগ এনে সভাপতির বিরুদ্ধে মামলা করেন। যা চলমান। কলেজের বর্তমান সভাপতি ও অধ্যক্ষ তাদের অনুসারী শিক্ষকদের মাধ্যমে দাপ্তরিক সকল কাজ করছেন। শিক্ষার্থীরা পড়াশুনার জন্য ভালো পরিবেশ পাচ্ছে না। পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত নয় তারা। শিক্ষার্থীদের অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বর্তমান সভাপতি ও অধ্যক্ষ। এখানেই ক্ষান্ত নয়, কলেজের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউই মুখ খুলতে চাচ্ছে না। তিনি ২০২০সালের ৭ জুন কলেজটির সভাপতি পদে নির্বাচিত হন। এরপর থেকে সভাপতি কলেজ একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিজের মর্জি মতো শিক্ষক/কর্মচারী নিয়োগ ও ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে কলেজের অর্থ আত্মসাৎ করার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

হামলার বিষয়ে কলেজটির অধ্যক্ষ মোঃ আনোয়ার হোসেন ভূঁঞা বলেন, আমি হামলার বিষয়ে কিছুই জানি না।

চিতোষী ডিগ্রী কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম তালুকদারের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী কলেজের একজন উপাধ্যক্ষ এক বছরের জন্য ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারে। দায়িত্ব হতে উপাধ্যক্ষকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দিয়ে সরকারী নীতিমালা অনুসরণ করে বর্তমান অধ্যক্ষ মোঃ আনোয়ার হোসেন ভূঁঞাকে নিয়োগ প্রদান করা হয়।

কর্মচারী নিজামকে লাঞ্চিত করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কলেজে মারামারির কোনো ঘটনা ঘটে নি। যদি মারামারি হয়েও থাকে, এ বিষয়ে আমার জানা নাই। আমি লোকমুখে শুনেছি, নিজাম ও তার বন্ধুদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির রেষ ধরে মারামারি হয়েছে। ঘটনার সময় জেড এম আনোয়ার ও স্থানীয় আ’লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলো।

মানববন্ধন হওয়া প্রসঙ্গে তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, আমার জানা মতে কলেজে কোন মানববন্ধন হয় নি। উপাধ্যক্ষ মোঃ কামরুল আহসান চৌধুরী অধ্যক্ষ না হওয়ায় আমার বিরুদ্ধে কারসাজি করছে।

Facebook Comments Box